• মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জাতীয় শিক্ষাক্রম  

সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থে দক্ষ শ্রমিক গড়ার অপকৌশল

জাতীয় শিক্ষাক্রম  

সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থে দক্ষ শ্রমিক গড়ার অপকৌশল

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনা অতিমারীতে যখন লক্ষাধিক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে তখন সেই শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষাজীবনে ফিরিয়ে আনার কৌশল না এনে “গণবান্ধব” সরকার আরও লক্ষাধিক শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার ব্যবস্থা করেছে “জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১”-এর মাধ্যমে। এই শিক্ষাক্রম নিয়ে নানা বিতর্ক চলছে। কেউ শিক্ষাক্রম বাতিল চাইছে, কেউবা কিছু ভাল দিক খুঁজে বের করে খারাপ দিকগুলোর সংস্কার চাইছে। ভাল খারাপ খোঁজার আগে দেখা প্রয়োজন এই শিক্ষাক্রমের প্রণেতা কারা এবং কাদের শাসনামলে এই শিক্ষাক্রম প্রণীত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকার-রাষ্ট্র ব্যবস্থার সমস্ত কাঠামো জিইয়ে রেখে তাদের তৈরি শিক্ষাক্রম কোনোভাবেই শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী শিক্ষাক্রম হতে পারে না। 

বিগত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ দেখছে ফ্যাসিবাদের এক নব্যরূপ। শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ সাধারণ শ্রেণির মানুষ ব্যাপকভাবে নিষ্পেষিত হচ্ছেন। ধনী-গরিব বৈষম্য আরও ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রণয়নকৃত শিক্ষাক্রম এই বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তুলবে। সাম্রাজ্যবাদের প্রেসক্রিপশনে ডিজিটাল পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে ৪র্থ শিল্প বিপ্লব উপযোগী সাম্রাজ্যবাদের সেবা করার জন্য দক্ষ শ্রমিক তৈরির মাধ্যম এই শিক্ষাক্রম। নামে “জাতীয়” শিক্ষাক্রম হলেও কার্যত তা সাম্রাজ্যবাদী প্রকল্প। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশে এযাবতকালে যত শিক্ষাক্রম বা শিক্ষানীতি প্রণয়ন হয়েছে তা সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের সেবাকারী শিক্ষাকেই প্রমোট করেছে। বিগত শিক্ষাক্রমগুলো থেকে আরও কয়েকধাপ এগিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১ জনজীবনে চাপিয়ে দিয়েছে এই ফ্যাসিবাদী সরকার। পাঠ্যক্রমে উগ্র জাতীয়তাবাদ, ইতিহাস বিকৃতি, বিজ্ঞানমনস্ক হীনতা, হিন্দুত্ববাদী ভাবধারায় সজ্জিত করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধাশূন্য করার প্রজেক্ট নিয়েছে।

 সরকারের ভাষ্যমতে নতুন প্রণীত শিক্ষাক্রম প্রগতিশীল ও একমুখী। কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষাকে ব্যাপকভাবে প্রমোট করে, বিজ্ঞান শিক্ষাকে সংকুচিত করে কোনো শিক্ষাক্রমই প্রগতিশীল হতে পারে না। বরাবরই ধর্মীয় মৌলবাদের সাথে আপস করে চলছে এই সরকার। একদিকে হিন্দুত্ববাদী মোদীর খণ্ডিত ইতিহাস লিখছে, অন্যদিকে বিজ্ঞান পড়ানোর ক্ষেত্রে মৌলবাদীদের সাথে আপস করছে। ৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ে হিজড়া, ট্রান্সজেন্ডার অধ্যায়ে হিজড়া, ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ে বৈজ্ঞানিক কোনো শিক্ষা না দিয়ে মানবিক কথাবার্তা বলে বিতর্ক সৃষ্টির পথ খোলা রাখা হয়েছে। ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে ধর্মবাদীরা প্রশ্ন তুলতেই তাদের কাছে সরকার মাথা নত করে শরীফার গল্প বাতিলের চিন্তা করছে। 

গত বছর প্রকাশিত ৭ম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের বিভিন্ন বিষয়বস্তু সরাসরি ইন্টারনেট থেকে কপি করা হয়েছিল। এবারও তার ব্যতিক্রম হয় নি। ভারতীয় কোচিং সেন্টারের নোট, গুগল তথা ইন্টারনেট থেকে সরাসরি কপি করেছে। এবারও যার লেখা এবং সম্পাদনার প্রধানভাবে দায়িত্বে ছিলেন বিশিষ্ট লেখক/ বুদ্ধিজীবীরা।এবারও আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা ইন্টারনেট এবং ভারতীয় কোচিং সেন্টারের উপর নির্ভর করেছে। আত্মনির্ভরশীলভাবে একটি বই লেখার যোগ্যতা যেখানে তাদের নেই, তাহলে শিক্ষার্থীদের তারা কী শেখাবেন তা বলাই বাহুল্য। 

উৎপাদনমুখী শিক্ষা তথা হাতে-কলমে শিক্ষার নামে শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণ করেছে নয়া কৌশলে। যা শ্রমিক-কৃষকের সাথে প্রহসন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ সবকিছুর দাম যখন তুঙ্গে তখন শ্রমিক-কৃষকের সন্তান এই ব্যয়বহুল শিক্ষা গ্রহণের পথে না হেঁটে সস্তায় শ্রম বিক্রির দক্ষতার পথই বেছে নিবেন এবং নিচ্ছেন। এছাড়া ডিজিটালাইজড হওয়ার চক্করে ব্যাপকভাবে প্রযুক্তি-নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের বাস্তব জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। সৃজনশীলভাবে কিছু চিন্তা করার শক্তিকে নষ্ট করে দিবে এই শিক্ষাক্রম। বিশেষ করে আওয়ামী প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির বাইরে প্রগতিশীল, বিপ্লবী ধারার রাজনীতি গড়ে উঠার সুযোগ বিনষ্ট করা হচ্ছে এই শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে। 

এই শিক্ষাক্রমের ভাল দিক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকার ফিনল্যান্ড-জাপানের উদাহরণ টানছে। অথচ বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত, শিক্ষকের মর্যাদা, পর্যাপ্ত বেতন, শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি, শিক্ষা বৈষম্য, শ্রেণি বৈষম্য এসবের কোনো বালাই নেই। বাস্তবতার কথা চিন্তা না করে সোজা অন্ধ অনুকরণ। মূল শিক্ষাক্রমই অনুকরণ করে তৈরি, তাহলে তার পাঠ্যক্রম অনুকরণ করে তৈরি হবে এটাই স্বাভাবিক। ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র এবং সরকারের কাছে এটাই কাম্য। ইউনেস্কোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী একটি দেশের শিক্ষাখাতে বরাদ্দ হওয়া উচিৎ মোট বাজেটের ২০% বা জিডিপির ৬%। অথচ ২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে বাজেটের ১১.৮৮% (জিডিপির ১.৬৯%)। প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ হলেও তার সঠিক ব্যবহার যে হবে না তা বলাই বাহুল্য, যেহেতু গোড়াতেই রয়েছে গলদ। আধুনিক শিক্ষাক্রম চালু করছে বলে দাবি করলেও কোনো মৌলিক পরিবর্তন নেই, সম্ভব নয়। 

একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখার কথা বললেও এখনও তিনধারার শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। বাংলা, ইংলিশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা। সবচেয়ে বড় ফারাক হল ইংলিশ মিডিয়াম গুলোতে চালু করেনি এই “আধুনিক” শিক্ষাক্রম। মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে বিশিষ্ট বুর্জোয়াদের সন্তানরা পড়ছে ইংলিশ মিডিয়ামে। তারা এই শিক্ষাক্রমে পড়ে দক্ষ শ্রমিক হবে না। রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণীতে থাকবে তারাই। ফলে শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষা হবে না এই শিক্ষাক্রম দ্বারা। শাসকশ্রেণির স্বার্থই চূড়ান্ত অর্থে রক্ষা হবে। শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক জনগণের স্বার্থরক্ষা করতে নতুন ধারার শিক্ষাক্রম প্রয়োজন। যা হবে নয়াগণতান্ত্রিক শিক্ষাক্রম। যে শিক্ষাক্রমের পথে হেঁটেই শোষণহীন ও উন্নত সমাজ সমাজতন্ত্র-কমিউনিজমের দিকে যাওয়া সম্ভব হবে।

তাই সর্বস্তরের জনগণকে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ, দালাল আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়াশ্রণির প্রভাবমুক্ত, শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী সর্বজনীন, বৈষম্যহীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, ধর্মবিযুক্ত, এক ধারার শিক্ষাক্রম প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম  

সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থে দক্ষ শ্রমিক গড়ার অপকৌশল

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনা অতিমারীতে যখন লক্ষাধিক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে তখন সেই শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষাজীবনে ফিরিয়ে আনার কৌশল না এনে “গণবান্ধব” সরকার আরও লক্ষাধিক শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার ব্যবস্থা করেছে “জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১”-এর মাধ্যমে। এই শিক্ষাক্রম নিয়ে নানা বিতর্ক চলছে। কেউ শিক্ষাক্রম বাতিল চাইছে, কেউবা কিছু ভাল দিক খুঁজে বের করে খারাপ দিকগুলোর সংস্কার চাইছে। ভাল খারাপ খোঁজার আগে দেখা প্রয়োজন এই শিক্ষাক্রমের প্রণেতা কারা এবং কাদের শাসনামলে এই শিক্ষাক্রম প্রণীত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকার-রাষ্ট্র ব্যবস্থার সমস্ত কাঠামো জিইয়ে রেখে তাদের তৈরি শিক্ষাক্রম কোনোভাবেই শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী শিক্ষাক্রম হতে পারে না। 

বিগত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ দেখছে ফ্যাসিবাদের এক নব্যরূপ। শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ সাধারণ শ্রেণির মানুষ ব্যাপকভাবে নিষ্পেষিত হচ্ছেন। ধনী-গরিব বৈষম্য আরও ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রণয়নকৃত শিক্ষাক্রম এই বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তুলবে। সাম্রাজ্যবাদের প্রেসক্রিপশনে ডিজিটাল পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে ৪র্থ শিল্প বিপ্লব উপযোগী সাম্রাজ্যবাদের সেবা করার জন্য দক্ষ শ্রমিক তৈরির মাধ্যম এই শিক্ষাক্রম। নামে “জাতীয়” শিক্ষাক্রম হলেও কার্যত তা সাম্রাজ্যবাদী প্রকল্প। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশে এযাবতকালে যত শিক্ষাক্রম বা শিক্ষানীতি প্রণয়ন হয়েছে তা সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের সেবাকারী শিক্ষাকেই প্রমোট করেছে। বিগত শিক্ষাক্রমগুলো থেকে আরও কয়েকধাপ এগিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১ জনজীবনে চাপিয়ে দিয়েছে এই ফ্যাসিবাদী সরকার। পাঠ্যক্রমে উগ্র জাতীয়তাবাদ, ইতিহাস বিকৃতি, বিজ্ঞানমনস্ক হীনতা, হিন্দুত্ববাদী ভাবধারায় সজ্জিত করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধাশূন্য করার প্রজেক্ট নিয়েছে।

 সরকারের ভাষ্যমতে নতুন প্রণীত শিক্ষাক্রম প্রগতিশীল ও একমুখী। কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষাকে ব্যাপকভাবে প্রমোট করে, বিজ্ঞান শিক্ষাকে সংকুচিত করে কোনো শিক্ষাক্রমই প্রগতিশীল হতে পারে না। বরাবরই ধর্মীয় মৌলবাদের সাথে আপস করে চলছে এই সরকার। একদিকে হিন্দুত্ববাদী মোদীর খণ্ডিত ইতিহাস লিখছে, অন্যদিকে বিজ্ঞান পড়ানোর ক্ষেত্রে মৌলবাদীদের সাথে আপস করছে। ৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ে হিজড়া, ট্রান্সজেন্ডার অধ্যায়ে হিজড়া, ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ে বৈজ্ঞানিক কোনো শিক্ষা না দিয়ে মানবিক কথাবার্তা বলে বিতর্ক সৃষ্টির পথ খোলা রাখা হয়েছে। ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে ধর্মবাদীরা প্রশ্ন তুলতেই তাদের কাছে সরকার মাথা নত করে শরীফার গল্প বাতিলের চিন্তা করছে। 

গত বছর প্রকাশিত ৭ম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের বিভিন্ন বিষয়বস্তু সরাসরি ইন্টারনেট থেকে কপি করা হয়েছিল। এবারও তার ব্যতিক্রম হয় নি। ভারতীয় কোচিং সেন্টারের নোট, গুগল তথা ইন্টারনেট থেকে সরাসরি কপি করেছে। এবারও যার লেখা এবং সম্পাদনার প্রধানভাবে দায়িত্বে ছিলেন বিশিষ্ট লেখক/ বুদ্ধিজীবীরা।এবারও আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা ইন্টারনেট এবং ভারতীয় কোচিং সেন্টারের উপর নির্ভর করেছে। আত্মনির্ভরশীলভাবে একটি বই লেখার যোগ্যতা যেখানে তাদের নেই, তাহলে শিক্ষার্থীদের তারা কী শেখাবেন তা বলাই বাহুল্য। 

উৎপাদনমুখী শিক্ষা তথা হাতে-কলমে শিক্ষার নামে শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণ করেছে নয়া কৌশলে। যা শ্রমিক-কৃষকের সাথে প্রহসন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ সবকিছুর দাম যখন তুঙ্গে তখন শ্রমিক-কৃষকের সন্তান এই ব্যয়বহুল শিক্ষা গ্রহণের পথে না হেঁটে সস্তায় শ্রম বিক্রির দক্ষতার পথই বেছে নিবেন এবং নিচ্ছেন। এছাড়া ডিজিটালাইজড হওয়ার চক্করে ব্যাপকভাবে প্রযুক্তি-নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের বাস্তব জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। সৃজনশীলভাবে কিছু চিন্তা করার শক্তিকে নষ্ট করে দিবে এই শিক্ষাক্রম। বিশেষ করে আওয়ামী প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির বাইরে প্রগতিশীল, বিপ্লবী ধারার রাজনীতি গড়ে উঠার সুযোগ বিনষ্ট করা হচ্ছে এই শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে। 

এই শিক্ষাক্রমের ভাল দিক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকার ফিনল্যান্ড-জাপানের উদাহরণ টানছে। অথচ বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত, শিক্ষকের মর্যাদা, পর্যাপ্ত বেতন, শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি, শিক্ষা বৈষম্য, শ্রেণি বৈষম্য এসবের কোনো বালাই নেই। বাস্তবতার কথা চিন্তা না করে সোজা অন্ধ অনুকরণ। মূল শিক্ষাক্রমই অনুকরণ করে তৈরি, তাহলে তার পাঠ্যক্রম অনুকরণ করে তৈরি হবে এটাই স্বাভাবিক। ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র এবং সরকারের কাছে এটাই কাম্য। ইউনেস্কোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী একটি দেশের শিক্ষাখাতে বরাদ্দ হওয়া উচিৎ মোট বাজেটের ২০% বা জিডিপির ৬%। অথচ ২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে বাজেটের ১১.৮৮% (জিডিপির ১.৬৯%)। প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ হলেও তার সঠিক ব্যবহার যে হবে না তা বলাই বাহুল্য, যেহেতু গোড়াতেই রয়েছে গলদ। আধুনিক শিক্ষাক্রম চালু করছে বলে দাবি করলেও কোনো মৌলিক পরিবর্তন নেই, সম্ভব নয়। 

একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখার কথা বললেও এখনও তিনধারার শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। বাংলা, ইংলিশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা। সবচেয়ে বড় ফারাক হল ইংলিশ মিডিয়াম গুলোতে চালু করেনি এই “আধুনিক” শিক্ষাক্রম। মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে বিশিষ্ট বুর্জোয়াদের সন্তানরা পড়ছে ইংলিশ মিডিয়ামে। তারা এই শিক্ষাক্রমে পড়ে দক্ষ শ্রমিক হবে না। রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণীতে থাকবে তারাই। ফলে শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষা হবে না এই শিক্ষাক্রম দ্বারা। শাসকশ্রেণির স্বার্থই চূড়ান্ত অর্থে রক্ষা হবে। শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক জনগণের স্বার্থরক্ষা করতে নতুন ধারার শিক্ষাক্রম প্রয়োজন। যা হবে নয়াগণতান্ত্রিক শিক্ষাক্রম। যে শিক্ষাক্রমের পথে হেঁটেই শোষণহীন ও উন্নত সমাজ সমাজতন্ত্র-কমিউনিজমের দিকে যাওয়া সম্ভব হবে।

তাই সর্বস্তরের জনগণকে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ, দালাল আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়াশ্রণির প্রভাবমুক্ত, শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী সর্বজনীন, বৈষম্যহীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, ধর্মবিযুক্ত, এক ধারার শিক্ষাক্রম প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র